ডেনাইট সংবাদ » ভালুকায় মৎস চাষের জলাশয়ে বিনা আবাদে ফসল উৎপাদন

২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

234-60

ভালুকায় মৎস চাষের জলাশয়ে বিনা আবাদে ফসল উৎপাদন

প্রকাশিত হয়েছে: বুধবার, ১১, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
baa

মোঃরফিকুল ইসলাম রফিক, ভালুকা: চাষাবাদ ছাড়াই ফসল উৎপাদন কৃষকদেরকে আকৃষ্ট করছে।বিশেষ করে এর সুফল ও সফলতায় তা ধীরে ধীরে কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় কৃষকরা কারিগরি দিক নির্দেশনা পাওয়ায় তা আরো সহজতর হচ্ছে।মৎস চাষের ফাঁকে মাটি প্রস্ত্তত করতে গিয়ে এ সুবিধা নিচ্ছে কৃষকরা।অল্প সময়ের আবাদ হওয়ায় বাড়তি উৎপাদন পেয়ে একদিকে যেমন কৃষকরাও খুশী অন্যদিকে শাকসব্জীর জনচাহিদা পুরনে ভুমিকা রাখছে এ ফলন।বাড়তি আবাদ বা কোন পরিচর্যা ছাড়াই এ স্বল্প সময়ের এ ফসল কৃষকরা খুব অনায়াসেই ঘরে নিতে সÿম হচ্ছে বলে সংশিস্নষ্ঠরা দাবী করছেন।ভালুকা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাইফল ইসলাম খান জানান,তাদের উদ্ভাবিত এ সফলতায় নড়ে চড়ে উঠেছে কৃষি গবেষনা ইন্সটিটিউট।

সম্প্রতি তারা একটি প্রকল্প পরিদর্শন করে গেছেন।কৃষি অফিস জানায়,উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা মৎস খামার গুলোতে জমি প্রস্ত্ততের নিবিরতায় তারা কৃষকদেরকে স্বল্প সময়কালীন ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের নানা ভাবে ’মুটিভেট’করার ফলশ্রম্নতিতে কৃষকরা ধীরে ধীরে এদিকে ঝুঁকছে।উপসহকারী কৃষি অফিসার হাবিবউলস্নাহ বাহার বলেন,২০১৪সালে উপজেলার মলিস্নকবাড়ী ইউনিয়নের ধামশুর গ্রামে জনৈক কৃষক আব্দুল জলিল মৎস চাষের ৫একর জমিতে পানি পরিবর্তনের জন্য জলাশয় শুকান।এ সময় ঐ জমিতে নিবিরতার মধ্যে অল্প সময়ে ভেতর ডাটা,পাট শাক,লাল শাক সহ বিভিণ্ণ শাকসব্জির আবাদ করে সফলতা পান।তা থেকে অন্যরা উৎসাহিত হতে থাকে।

এ সফলতা কৃষি অফিসের কর্মরতরা চাষীদের মধ্যে নানা ভাবে ছড়িয়ে দেয়ায় একে উপজেলার বিভিন্ন প্রামেত্ম আবাদ বাড়তে থাকে।উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ধলিয়া দেয়ালিয়াপাড়ার কৃষক ধনু তার৭একর মৎস খামারে পাটের চাষ করে ১১০মন পাট আবাদ করেন।বিরম্ননীয়া ইউনিয়নের গোয়ারী বস্নকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বারী জানান,তার বস্নকে বিরম্ননীয়ার মোড় এলাকার কৃষক সুরম্নজ মিয়া ৫একর জমিতে ডাটা ও ডালসহ বিভিন্ন সব্জি থেকে প্রায় ৪/৫লাখ টাকা উপার্জন করতে সÿম হয়।এ দেখে পাশ্ববর্তী বাওয়ার মোড় এলাকার কৃষক আবু হানিফা ২একর জমিতে ডাটা ও লাল শাক চাষ করে ৫০হাজার টাকা আয় করেছেন।এখন বাওয়ার বিলে বিচ্ছিন্ন ভাবে কৃষকরা লাল শাক ও বিভিন্ন সব্জির আবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।ভালুকা পৌরসভার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আজাহারম্নল ইসলাম সোহাগ জানান,পৌর এলাকার কাঠালী নামক স্থানে নাজমুল হক নামে জনৈক কৃষক তাঁর মৎস চাষের জমি নিষ্কাশন করার পর প্রায় ৩একর জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন যা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোন মাছের খামার ছিল।তিনি জানান,এ বস্নকের ভুতপুর্ব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বানী পদ রায় কৃষক নাজমুলকে এ চাষে উদ্বুব্ধ করেন।তিনি দোকানে বসে কথা বলছিলেন এ সময় নিজের প্রয়োজনেই নাজমুল ঐ দোকানে আসলে কথাবার্তার এক পর্যায়ে তাঁকে এ পরামর্শ দেন বানীপদ রায়।

তাঁর ফসলের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে অভিভুত হন এলাকার লোকজন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক নাজমুল আলম জানান,ডুবাইল বিলে ৩একর জমিতে এ বছর সরিষা,পালং শাক,পুই শাক,ডাটা ও পাট শাকের আবাদ করেছেন।ইতিমধ্যেই শাক বিক্রি শুরম্ন হয়েছে।তিনি জানান এ আবাদ থেকে প্রায় ২লাখ টাকা উপার্জনের আশা করছেন তিনি।এ আয় দিয়েই পরবর্তীতে মৎস চাষের জন্য মাটি উপযোগী করার খরচ নির্বাহ করা সম্ভব হবে।তিনি আরো জানান,তার আরো একটি মৎস খামার রয়েছে বাওয়াকুলা বিলে।সেখানে ৫একর জমিতে তার মাছের চাষ রয়েছে।আগামীতে সে জমি শুকানোর সময় সবটুকো জমিতেই কৃষি চাষ করবেন তিনি।তার এ ফলন দেখে অন্যান্য চাষীরাও উৎসাহিত হচ্ছে এমনটা আশাবাদী কৃষি সংশিস্নষ্ঠরা।এ চাষের সুবিধা হলো এর জন্য জমি তৈরী করতে হয়না।প্রয়োজন নেই আলাদা কোন পরিচর্যার।৩/৪বছর পর পর এমনিতেই মাছের জলাশয় গুলোকে শুকিয়ে নতুন করে প্রস্ত্তত করতে হয়।কারন মাছের খাদ্য হিসেবে ইউরিয়া,খৈল,টিএসপি,পোল্ট্রি লিটার,গোবর ও জৈব সার পুকুর বা জলাশয় গুলোতে দেয়া হয়।

মাছ সবগুলো খাবার খেতে পারেনা ফলে সার গুলো মাটিতে গিয়ে জমা হয়।এতে মাটিতে অতিরিক্ত উর্বরতা বাড়ে।অতিমাত্রায় সার জমে থাকায় পানির অমস্নতা বা এসিডের মান বেড়ে যাওয়ায় তা মাছ চাষের উযোগী করতে পানির অমস্নতার মান নিয়ন্ত্রন জরম্নরী।এ সময় পুকুর বা জলাশয় গুলোকে শুকানো হয়।শুকানোর অল্প সময়ে কাঁদা মাটিতে ফসলের বীজগুলো (যা ছিটিয়ে দিতে হয়)ছিটিয়ে দিয়ে কৃষকের কোন পরিচর্যার প্রয়োজন পড়েনা।অল্প সময়ে বিশেষ করে শাক সব্জি জাতীয় ফলন খুব অনায়াসেই কৃষকরা ফলাতে পারে।উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল আজম খান আরো জানান,আগামীতে রসুন,পিঁয়াজ,আলু ইত্যাদি ফলনের জন্য কৃষকদের উদ্বুব্ধ করছেন তারা।তিনি জানান বিরম্ননীয়ার মোড় এলাকার জনৈক কৃষকের শাক সব্জি এতোটাই পরিমান উৎপাদন হয়েছিল যা স্থানীয় ভাবে বিক্রি করে শেষ করতে পারেনি।পরে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।এমনকি ট্রাক ভর্তি করে এ শাক সব্জি বিভিন্ন জায়গায় স্থানামত্মর করতে হয়েছে।সম্প্রতি কৃষি গবেষনা ইন্সটিটিউট কর্মকর্তাগন বিরম্ননীয়া ইউনিয়নের বাওয়ার মোড়ে সুরম্নজ মিয়ার প্রকল্প পরিদর্শন করে গেছেন।তারা এ বিষয়ে আরো কারিগরি দিকগুলো গবেষনার মাধ্যমে এর সুফল কৃষকদের মধ্যে পৌছানোর লÿÿ্য কাজ শুরম্ন করেছেন।

Print Friendly

©m01


সর্বশেষ খবর

পুরোনো খবর

SatSunMonTueWedThuFri
     12
10111213141516
17181920212223
2425262728  
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
       
 123456
78910111213
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
15161718192021
22232425262728
2930     
       
    123
45678910
11121314151617
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
28293031   
       
      1
30      
282930    
       
     12
10111213141516
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
    123
45678910
18192021222324
       
    123
18192021222324
       
28      
       
  12345
6789101112
       
2930     
       
    123
11121314151617
       
  12345
20212223242526
27282930   
       
   1234
       
       
       
   1234
12131415161718
       
     12
31      
      1
       
     12
3456789
       

ডেনাইটসংবাদ.কম দেশ বিদেশে ভিজিটর

Flag Counter
This is the head of your page. Example HTML page This is the body of your page.

as

shikha



প্রধান সম্পাদক:মোঃ নুরুল আমিন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃসোহেল রানা
Chief Editor: Md. Norul Amin, Cell: 01711142317,
Publisher & Editor: Md.Sohel Rana, Cell:01933988098
Office:298/s aBhaban(7thFloor)Arambag,Motijheel,Dhaka,1000
Email:daynightsangbad1@gmail.com,daynightsangbad@yahoo.com




Developed & Tech Support by: