ডেনাইট সংবাদ » খিলগাঁয়ে পুলিশের ইনজেকশন থেরাপি,এলাকায় আতঙ্ক

২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

234-60

খিলগাঁয়ে পুলিশের ইনজেকশন থেরাপি,এলাকায় আতঙ্ক

প্রকাশিত হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৪, মে, ২০১৬ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

 

এস এম নাসির:রাজধানীর খিলগাঁয়ে ইনজেকশন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আর এ ইনজেকশন আতঙ্কের পেছনে স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় সদস্যের সরাসরি সংশ্লিষ্ঠতা রয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। খিলগাঁও থানার কতিপয় পুলিশ সদস্য ও সোর্স যোগসাজশে বিগত কয়েক মাস ধরে এলাকার কিছু পেশাদার আপরাধীকে ধরাসায়ী করতে সহজ লভ্য নেশাজাতীয় ইনজেকশন (এ্যাম্পোল) দিয়ে মামলা দিয়ে আসছিল। আর এই ই্নজেকশন মামলা ধীরে ধীরে কতিপয় পুলিশে অনৈতিক সুবিদা আদায়ের নিরাপদ থেরাপিতে পরিণত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে খিলগাঁও থানার এসআই মিন্টু কুমার এলাকার ১৫১ দক্ষিণ গোঁরান (শান্তিপুর) ঢাকার স্থায়ী বাসিন্ধা হনুফা বেগম (৪০) তার ছেলে রবিন (২৫) ও তাই এক আত্মীয় শাহিন (৪৬) কে তার (হনুফার) পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া  এ্যপার্টমেন্টের ফ্লাট থেকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে কোন মাদক জাতীয় দ্রব্য না পাওয়া গেলে ও পুলিশের হাতের নাগালে থাকা নেশা জাতীয় ইনজেকশন (এ্যম্পোল্) উদ্ধার দেখিয়ে মাদক আইনে মামলা দেয়া হয়। মামলা নং-১৯,তারিখ-১৩-০৫-২০১৬। এ ঘটনায় ঘনবসতিপূর্ন ওই এলাকায় পুলিশের ইনজেকশন মামলার কথা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। আর তা এখন আতঙ্ক হিসাবে দেখা দিয়েছে। আরো জানায়, বিধবা হনুফার পরিবার (স্বামী,সন্তান) কখন ও মাদক কারবারের সাথে জড়িত ছিল না। তবে তাঁর বড় বোন বেদেনা বেগম (৪৩) একজন পেশাদার ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। আর এ কারনে সে (হনুফা) সহ অন্যান্য নিরীহ নিরাপরাধী স্বজ্জনরা বিগত সময়ে বারংবার পুলিশী হয়রানির শিকার হয়। ফলে তিনি ও তার অন্যান্য স্বজ্জনরা ওই বোনের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় একাধিক সাধারন ডাইরী করে  তাকে ওই এ্যপার্টমেন্ট থেকে বের করে দিয়েছে। এর পর ও ওই দিন এসআই মিন্টু কতিপয় সোর্সের ইন্দনে অবৈধ সুবিদা আদায়ের উদ্দেশ্যে হনুফা সহ ওই দু জনকে আটক করে। এর পর দেনদরবারে বনিবনা না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ইনজেকশনের মামলা দিয়ে তা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাঁর (হনুফার) বড় বোন বেদেনা বেগম ও তাঁর ছেলে আরিফ (২৫) কে পলাতক দেখিয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সহ আতঙ্ক বিরাজ করছে। সুত্র আরো জানায়, কয়েক মাস আগে খিলগাঁও থানার এসআই রফিক এলাকার প্রভাবশালী মাদক  কারবারী লইত্যা ও রুমা দম্পতির  রুমাকে আটক করে। এরপর তাকে ৭০ পিছ নেশা জাতীয় ইনজেকশন (এ্যম্পোল্) দিয়ে মামলা দেয়। কিন্তু সে আসলে একজন পেশাদার ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। গত মাসে রুমার বৈমাত্রেয় ছেলে জাহিদ (২০) কে আটক করে মোটা অংকের টাকা দাবী করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রফাদফা না হওয়ায় একই ভাবে নেশা জাতীয় ইনজেকশন দিয়ে মামলা দেয়া হয়। তার প্রায় পুরা পরিবার পেশাদার মাদক কারবারী হলে ও সে তাদের থেকে আলাদা। কারণ সে (জাহিদ)  মাদ্রাসায় পড়াশনা করায় তার পরিবারের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতো। এভাবে সম্প্রতি খিলগাঁও থানা পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা ও কতিপয় সোর্স যোগশাজসে এলাকার নিরাপরাধ লোকজনকে আটক করে হীন স্বার্থ উদ্ধারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ওই সময়ে স্বার্থ সিদ্ধি না হলে ক্ষুব্ধ হয়ে  কৌশল হিসাবে ইনজেকশন থেরাপি ব্যবহার করে ও পেশাদার কোন  মাদক কারবারী কে পলাতক দেখিয়ে ওই মামলার আটককৃত আসামী বানিয়ে ভবিষ্যতে রফাদফার পথ খুলে রাখছে। আর ওই দিন হনুফা ও তার দুই স্বজ্জন কে ইনজেকশন থেরাপি দিয়ে একই ভাবে আইনের  আওতায় আনায় গোটা এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যপারে হনুফার স্বজ্জন জহিরুল ইসলাম জানান, খিলগাঁও থানার কিছু পুলিশ বর্তমান ইনজেকশন থেরাপি চালু করছে। কয়েক মাস ধরে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীদের ধরাশায়ী করতে ওই ইন্জেকশন থেরাপি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। যা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ তা অপরাধীকে সায়েস্তা সহ সমাজের উপকারে আসছিল। কিন্তু ইদানিং  থানার বেশ কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও কিছু  সোর্স পরিচয়দানকারী পেশাদার অপরাধী যোগশাজসে ওই ইন্জেকশন থেরাপিকে অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। আর তাই তারা যখন উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যার্থ হচ্ছে তখন  এলাকার নিরীহ সাধারন মানুষকে ও একই ভাবে ইনজেকশন ব্যবসায়ী সাজিয়ে মামলার আসামী বানাচ্ছে। তিনি আরো জানান, আমাকে (জহিরুল ইসলাম) এভাবে একাধিক বার ফাঁশানোর চেস্টা করা হয়েছে। আমি তাদের এ ধরনের অপকর্মের বিষয়ে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি তা আমলে তো নেন নি, বরং আমার ওপর ক্ষিপ্ত। তাই আমি এ ব্যপারে স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রানালয় সহ উর্ধ্বতন মহলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্ধা ব্যবসায়ী ও গনমাধ্যম কর্মী এএইচ আলী জানান,তিনি বংশগত ভাবে ঢাকাইয়া। জন্ম সুত্রে ওই এলাকার (শান্তিপুর পাঁচ নম্বর রোড়) স্থায়ী বাসিন্ধা। মহল্লার একÑআধ জন আপরাধীর জন্য ভাইবোন আত্মীয় স্বজ্জন নিয়ে বড় বিপাকে আছি। ইনানিং খিলগাঁও থানা পুলিশ নতুন পদ্ধতি বের করছে। যে কাউকে আটক করে উদ্দেশ্য পূরনে ব্যার্থ হলেই তাদের (পুলিশের) হেফাজতে থাকা নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দেয়া হচ্ছে। আর ওই মামলার ত্র“টি ঢাকার জন্য কৌশলে সংশ্লিষ্ঠ এলাকার কোন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী কে পলাতক দেখানো হচ্ছে। ওই সব নেশাজাতীয় ইন্জেকশন পুলিশের জন্য সহজ লভ্য ও সস্তা হলে ও অনেক নিরীহ ও নিরাপরাধী লোকের জীবন সংসার বিপন্ন হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এখন শুধু এই মহল্লায় নয়, এলাকার বেশীর ভাগ মহল্লায় পুলিশের ওই ইন্জেকশন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের একটি সুত্র জানান, ইদানিং খিলগাঁও সহ বেশ কিছু থানায় নেশাজাতীয় ইন্জেকশন (এ্যম্পোল) মামলা একটু বেশী হচ্ছে। তবে এ ব্যপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সু-নির্দিস্ট কোন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা যায়, খিলগাঁও এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে পুলিশ কিছু পেশাদার ধূর্ত মাদক ব্যবসায়ীকে ধরাশায়ী করার জন্য তাকে আটক করার পর তার বিরুদ্ধে ইনজেকশন মামলা দিয়ে আসছিল। আর ওই ইন্জেকশন উদ্ধারের বিষয় নিয়ে নানা বিতর্ক ও ছিল। যা আইনের দৃস্টিতে বেয়াইনি হলে ও বাহ্যিক ভাবে সাধারন জনগনের স্বস্তি সুলভ সম্মতির ও কমতি ছিল না। কিন্তু বর্তমানে পুলিশ ওই ইন্জেকশন কে বিভিন্ন কায়দায়  অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসাবে কাজ লাগাচ্ছে। এতে সাধরন জনগনের মধ্যে নানা আলোচনা সমালোচনার জায়গা তৈরী হয়েছে। পুরো এলাকায় যত্রতত্র নেশাজাতীয় ইন্জেকশন সেবী থাকলে ও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীর একেবারেই গরমিল। যার ফলে এ সব মামলায় উদ্ধার দেখানো ইনজেকশনের উৎস নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কারা কারো মতে, সোর্সদের ইন্দোনে নিরীহ নিরাপরাধী লোকজনকে কব্জা করার কোন সুযোগ পেলেই হেস্তনেস্ত করে টাকা আদায়ে ব্যার্থ হলে তাদের (পুলিশের ও সোর্সের) কাছে থাকা অন্য আর কিছু নয়, সহজলভ্য ও কমদামী ওই  ইন্জেকশন উদ্ধার দেখিয়ে  মামলা দেয়া হচ্ছে। যে মামলায় নুন্যতম দু মাসের আগে জামিন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। তাছাড়া অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, ওই ইনজেকশন উদ্ধার দেখানোর পেছনে খিলগাঁও থানার সোনাহার নামের একজন খোদ পুলিশ সদস্যের ব্যবসা জড়িত। কয়েক মাস আগে ইনজেকশন গুলো আনা হয় মিডফোর্ট এলাকা থেকে পইকারী ৪৫-৫০ টাকা দরে আর মামলার প্রয়োজনে কোন অফিসারের কাছে বিক্রি হয় সর্বনিম্ন ৯০-১০০টাকা দরে। আর পুলিশের ওই ইনজেকশন বানিজ্য ও অবৈধ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য মিলে পুরো এলাকায় এখন ইনজেকশন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Print Friendly

©m01


সর্বশেষ খবর

পুরোনো খবর

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
15161718192021
22232425262728
2930     
       
    123
45678910
11121314151617
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
28293031   
       
      1
30      
282930    
       
     12
10111213141516
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
    123
45678910
18192021222324
       
    123
18192021222324
       
28      
       
  12345
6789101112
       
2930     
       
    123
11121314151617
       
  12345
20212223242526
27282930   
       
   1234
       
       
       
   1234
12131415161718
       
     12
31      
      1
       
     12
3456789
       

ডেনাইটসংবাদ.কম দেশ বিদেশে ভিজিটর

Flag Counter
This is the head of your page. Example HTML page This is the body of your page.

as

shikha



প্রধান সম্পাদক:মোঃ নুরুল আমিন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃসোহেল রানা
Chief Editor: Md. Norul Amin, Cell: 01711142317,
Publisher & Editor: Md.Sohel Rana, Cell:01933988098
Office:298/s aBhaban(7thFloor)Arambag,Motijheel,Dhaka,1000
Email:daynightsangbad1@gmail.com,daynightsangbad@yahoo.com




Developed & Tech Support by: