ডেনাইট সংবাদ » বড় ছেলে-মেয়ের জামাতার পর এবার ইয়াবা-সম্রাজ্য ছোট ছেলে রনির কর্মকাণ্ডে ফের বিতর্কের মুখে পড়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী মায়া চৌধুর

২৪শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

234-60

বড় ছেলে-মেয়ের জামাতার পর এবার ইয়াবা-সম্রাজ্য ছোট ছেলে রনির কর্মকাণ্ডে ফের বিতর্কের মুখে পড়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী মায়া চৌধুর

প্রকাশিত হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৩০, জুন, ২০১৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
maya01

 

ডেনাইটসংবাদ.কম : বড় ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু (দিপু চৌধুরী) এবং মেয়ের জামাতা র‌্যাব থেকে চাকরিচ্যুত সেনাকর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাইদের পর এবার ছোট ছেলে রাশেদুল হোসেন চৌধুরীর (রনি চৌধুরী) কর্মকাণ্ডের কারণে ফের বিতর্কের মুখে পড়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (মায়া চৌধুরী)।

মন্ত্রীপুত্র রনি চৌধুরীর বিরুদ্ধে এবার নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠেছে। রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। মরণনেশা ইয়াবা তৈরির অন্তত তিনটি কারখানার মালিক তিনি। মায়া চৌধুরীর প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে রনি চৌধুরীর বিরুদ্ধ। এছাড়াও আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায় থেকে বেশ কজন নেতাকর্মী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপ নির্বাচনে রনি চৌধুরী ব্যাপক মনোনয়ন-বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমান সরকারের ১৯৯৬ সালের মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে বড় ছেলের অপকর্মের কারণে বিতর্কিত হন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। দলের রাজধানী কেন্দ্রিক রাজনীতিতে একসময় বিশাল অবস্থানে থাকা মায়া চৌধুরীর বড় ছেলে দিপু চৌধুরী উত্তরা ফ্রেন্ডস ক্লাবকে ঘাটি বানিয়ে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন। ভূমি দখল ও ক্লাবের অাধিপত্য নিয়ে ২০০০ সালে তিতাস নামে একজনকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে দীপু চৌধুরীর বিরুদ্ধ মামলা হলেও তিনি থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তখনকার প্রতিমন্ত্রী মায়া নিজের প্রভাব খাটিয়ে দীপুকে রক্ষা করেন।

২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় জড়িয়ে মায়া চৌধুরীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেন তার মেয়ের জামাতা র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক ও সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ। তাকে নিয়ে এখনো কারা কর্তৃপক্ষকে নানামুখী ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। প্রভাবশালী মন্ত্রীর জামাতা হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের কেবিনকে তারেক সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যারা নিজের বাড়িঘর মতো ব্যবহার করায় নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।

বড় ভাই ও বোন-জামাইয়ের পথ ধরে এবার রনি চৌধুরী নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। রনি চৌধুরী ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাহপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় আড়াই বিঘা জমি দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণের পায়তারা করছেন বলে জানা গেছে। তার নের্তৃত্বে মাটি ভরাট করা হচ্ছে সেই জায়গায়। এছাড়াও উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রনি গ্রুপের সদস্যরা ভয়-ভীতি দেখিয়ে আদায় করছেন মাসোয়ারা। রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের বড় অংশকে এখন রনি চৌধুরী নিয়ন্ত্রণ করছেন।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ইয়াবা ব্যবসার বড় অংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন মন্ত্রীপুত্র রনি চৌধূরী। টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রনি চৌধুরী গড়ে তুলেছেন গভীর সখ্য। তাদের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা তৈরির মেশিন ও কাঁচামাল সংগ্রহ করে রাজধানীর গুলশান, তেঁজগাও ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় খুলেছেন অন্তত তিনটি কারখানা। মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে নিয়ে আসা মোসলেম আলী নামের এক কারিগর ইয়াবা কারথানাগুলো তত্বাবধান করে থাকেন। এইসব কারখানা থেকে প্রতিদিন তৈরি হওয়া কমপক্ষে দুই লাখেরও বেশি ইয়াবা বড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের ৪৩ নম্বর রোডের একটি রেস্তোরার আড়ালে ইয়াবা কারখানা খুলেছেন রনি চৌধুরী। সাবেক এক মন্ত্রীর ভাই নাঈম ও ভাগ্নে সারোয়ারও রয়েছেন তার সঙ্গে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের অদূরে একটি ওষুধ কারখানার ভেতরেও রনি চৌধুরী মেশিন বসিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ আছে। এখানে থেকে ‘জরুরি ওষুধ’ লেখা পিকআপ ভ্যানে ইয়াবা চালান রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ডেলিভারি দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর সেতুর পার্শ্ববর্তী গোদনাইল এলাকায় ভাসমান ড্রেজিং বার্জের মধ্যেই রনি চৌধুরী লোকজন আরেকটি ইয়াবা কারখানা স্থাপন করেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তেল চোর সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য রনির পক্ষে পক্ষে তত্বাবধান করে থাকেন বলে সূত্র জানায়।

এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মহানগর উপ-অঞ্চলের এক উপপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাঘব বোয়ালরা ইয়াবার ব্যবসা চালাচ্ছে। তারা নামে-বেনামে তৎপর আছে। একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ছেলে ইয়াবা ব্যবসা করছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছে। তাকে নজরদারি করা হচ্ছে।’

কয়েকমাস আগের উত্তরার আবদুল্লাহপুর পলওয়েল মার্কেটসংলগ্ন (বেড়িবাঁধ বস্তি হিসেবে বেশি পরিচিত) পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় আড়াই বিঘা জমির ওপর বস্তি উচ্ছেদ করা হয়। আবদুল্লাহপুর পলওয়েল মাঠ বস্তি হিসেবে পরিচিত ওই জায়গাটি সম্প্রতি দখল করে নিয়েছেন রনি চৌধুরী ও তার দলবল। সেখানে মাটিভরাট করে টিনশেড দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মার্কেট। প্রতিদিন রাতের বেলায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এখানে আড্ডা বসায় এবং ইয়াবা সেবন করে। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। উত্তরা রাজউক কাঁচাবাজার মার্কেটও রনি চৌধুরীর দখলে। সেখানকার প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে তাঁর লোকজন।

অনুসন্ধানে একাধিক সুত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, উত্তরা এলাকাতেই রনি চৌধুরীর মূল আস্তানা। এছাড়াও গুলশান, বনানী ও মালিবাগ এলাকার তাঁর নেতৃত্বে রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ইয়াবার ব্যবসা করে রাতারাতি কোটি কোটি টাকা বানিয়েছে তারা। রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের এইসময়ের টপ সন্ত্রাসী জাফর আহমেদ মানিকের ক্যাডারগ্রুপও রনি চৌধুরীর হয়ে কাজ করছে বলে সূত্র জানায়।

দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীপুত্র রাশেদুল হোসেন চৌধুরীর (রনি চৌধুরী) অর্থবিত্তের উৎস সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দুদক কর্মকর্তারা তার ট্যাক্ম সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন।

নাম প্রকাশে না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চাঁদপুরে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ত্যাগি নেতাদের মধ্যে একজন হলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। কিন্তু সন্তানদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মায়া চৌধুরী যদি পুত্রদের লাগাম টেনে ধরতে না পারেন তা তার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন মোফাজ্জল হোসোন মায়া অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার যথেষ্ট অবদান আছে, যা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। নতুন বিভক্ত মহানগর কমিটিতে মায়া চৌধুরীকে না রাখায় তার ছেলে রাশেদুল হোসেন চৌধুরীর (রনি)-কে ঢাকা উত্তরের একটি সম্মানজনক পদ দেওয়া হতে পারে। ঢাকা উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক বা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দেখা যেতে পারে রনি চৌধুরীকে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন মোফাজ্জল হোসোন মায়া অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার যথেষ্ট অবদান আছে, যা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। নতুন বিভক্ত মহানগর কমিটিতে মায়া চৌধুরীকে না রাখায় তার ছেলে রাশেদুল হোসেন চৌধুরীর (রনি)-কে ঢাকা উত্তরের একটি সম্মানজনক পদ দেওয়া হতে পারে। ঢাকা উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক বা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দেখা যেতে পারে রনি চৌধুরীকে। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক হিসেবে রয়েছেন রনি চৌধুরী।

এদিকে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পদ থেকে নাম বাদ দিতে দলের হাইকমান্ড নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ক্ষমতাসীন দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।

Print Friendly

©m01


সর্বশেষ খবর

পুরোনো খবর

SatSunMonTueWedThuFri
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
15161718192021
22232425262728
2930     
       
    123
45678910
11121314151617
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
28293031   
       
      1
30      
282930    
       
     12
10111213141516
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
    123
45678910
18192021222324
       
    123
18192021222324
       
28      
       
  12345
6789101112
       
2930     
       
    123
11121314151617
       
  12345
20212223242526
27282930   
       
   1234
       
       
       
   1234
12131415161718
       
     12
31      
      1
       
     12
3456789
       

ডেনাইটসংবাদ.কম দেশ বিদেশে ভিজিটর

Flag Counter
This is the head of your page. Example HTML page This is the body of your page.

as

shikha



প্রধান সম্পাদক:মোঃ নুরুল আমিন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃসোহেল রানা
Chief Editor: Md. Norul Amin, Cell: 01711142317,
Publisher & Editor: Md.Sohel Rana, Cell:01933988098
Office:298/s aBhaban(7thFloor)Arambag,Motijheel,Dhaka,1000
Email:daynightsangbad1@gmail.com,daynightsangbad@yahoo.com




Developed & Tech Support by: