ডেনাইট সংবাদ » তানোর এলজিইডি ভবনে গড়ে উঠেছে একটি দালাল সিন্ডিকেট

২১শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং | ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

234-60

তানোর এলজিইডি ভবনে গড়ে উঠেছে একটি দালাল সিন্ডিকেট

প্রকাশিত হয়েছে: বুধবার, ৫, এপ্রিল, ২০১৭ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবন আকুন্ঠ দূর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশলী আবদুলস্না আল মামুনের নেপথ্য মদদে এলজিইডি ভবন ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি দালাল সিন্ডিকেট চক্র। এই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো এলজিইডি ভবন। বিভিন্ন ঠিকাদার ও সংশিস্নষ্টদের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন হিসাব সহকারী আজগর আলী । তারা বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা আদায় করে প্রকৌশলীর কাছে জমা দেন তার পরে আনুঃপাতিক হারে তা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তানোর এলজিইডি ভবনে স্বাভাবিক নিয়মে কোন কাজ হয় না। কাজে ক্রটি থাক বা নাই থাক অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাহিদামত আর্থিক সুবিধা দিতে হচ্ছে। নইলে কথিত অভিযোগে বিল আটকে দেয়াসহ নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে নিরহ ঠিকাদারদের। এছাড়াও ঠিকাদার সিন্ডিকেট, নিম্নমানের কাজ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, ঘুষ, অর্থ ছাড়ে কমিশন আদায় সব মিলিয়ে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তানোর এলজিইডি ভবনে। আর এসব অপকর্মের কারনে স্থানীয় সাংসদ ও সরকারি দলের সুনাম ক্ষেন্ন হচ্ছে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

সুত্র জানায়, দালাল চক্র সিন্ডিকেটর সহায়তায় প্রভাবশালী মহল ইতিমধ্যেই এলজিইডি’র একাধিক বড় অংকের টেন্ডারের কার্যাদেশ হাতিয়ে নিয়েছে। তানোরে সড়ক ব্রিজ-কালভ্রাট যায় টেন্ডার দেয়া হোক, কর্তৃপক্ষ মনোনিত ঠিকাদার সিন্ডিকেট ছাড়া সেই টেন্ডার নেয়ার অধিকার কারো নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, একেকটি টেন্ডারের বিপরীতে ২০/২৫টি সিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়ে মাত্র ৪/৫টি। সাধারণ ঠিকাদার সিডিউল জমা দিতে গেলে তাদের বিভিন্ন কৌশলে বাধা দেয়া হয়। কেউ ফাঁক-ফোকর দিয়ে জমা দিলেও তাকে টেন্ডার প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। টেন্ডার প্রত্যাহার না করলে অনেক ক্ষেত্রে কথিত অভিযোগে টেন্ডার সিডিউল বাতিল করা হয়।

এলজিইডি ভবনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এই সিন্ডিকেটের কাছে আর্থিক শুবিধা পেয়ে থাকেন। যে কারণে ব্রিজ-কালভ্রাট বা সড়কের কাজ নিম্নমানের হলেও কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে কোন আপত্তি তুলতে পারে না। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অদক্ষতা আর অবহেলার কারণে উপজেলায় অনেক গুরম্নত্বপূর্ণ কাজ যথা সময়ে শেষ না হয়ে মাঝ পথে থেমে আছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

তানোর উপজেলাবাসি এইসব অনিয়ম ও দূর্নীতি দুর করে এলজিইডি ভবনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সংশিস্নষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরম্নরী হসত্মক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তানোর এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুলস্না আল মামুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেউ অবৈধ সুবিধা না পেয়ে এসব অভিযোগ তুলেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে ‘দম্ভোক্তি করেন আর বলেন এসব লিখে কোন লাভ নেই ভাগ যায় ওপর মহলে বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

Print Friendly

©m01


সর্বশেষ খবর